| বঙ্গাব্দ

ড. মোমেনের সিনেমাটিক পলায়ন ও আওয়ামী লীগের পতন | ১৯০০-২০২৬ বিশ্লেষণ

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 14-01-2026 ইং
  • 1677073 বার পঠিত
ড. মোমেনের সিনেমাটিক পলায়ন ও আওয়ামী লীগের পতন | ১৯০০-২০২৬ বিশ্লেষণ
ছবির ক্যাপশন: ড. মোমেন

আওয়ামী লীগের পতন ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ‘সিনেমাটিক’ পলায়ন: ১৯০০-২০২৬ এর রাজনৈতিক পটভূমি

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

বাংলাদেশের রাজনীতিতে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট এক অবিস্মরণীয় দিন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। দীর্ঘ ১৫ বছরের অধিক সময় ক্ষমতায় থাকার পর ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনার পদত্যাগ ও ভারতে পলায়ন কেবল একটি দলের পতন নয়, বরং একটি যুগের অবসান ঘটিয়েছে। এই পতনের নেপথ্যে শেখ হাসিনার ভুল সিদ্ধান্ত, চরম দাম্ভিকতা এবং ক্ষমতা কুক্ষিগত করার আকাঙ্ক্ষাকেই দায়ী করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক থেকে শুরু করে খোদ তাঁর দলেরই অনেক সুবিধাভোগী নেতা।

সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রীর অবিশ্বাস্য আত্মগোপন ও পলায়ন কাহিনী

গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে আত্মগোপনে থাকা সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও সিলেট-১ আসনের সাবেক এমপি ড. একে আব্দুল মোমেন সম্প্রতি এক ভার্চ্যুয়াল সাক্ষাৎকারে তাঁর আট মাসের রুদ্ধশ্বাস পলাতক জীবনের বর্ণনা দিয়েছেন। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত এই নেতা জানান, গত এক বছরেরও বেশি সময় তিনি অন্তরালে ছিলেন।

ধরা পড়ার ভয়ে তিনি ছয়বার মোবাইল সিম পরিবর্তন করেছেন এবং একাধিকবার বাসা বদলেছেন। চেহারায় আমূল পরিবর্তন আনতে তিনি দাড়ি রেখেছেন। আব্দুল মোমেনের ভাষায়, "এটি একটি সিনেমা হতে পারে। সুন্দর মুভি হবে। আই ওয়াজ দ্য লাস্টম্যান টু লিভ দ্য কান্ট্রি।" তিনি আরও জানান, গণঅভ্যুত্থানের মাত্র কয়েকদিন আগে তিনি আমেরিকা থেকে দেশে ফিরেছিলেন এবং পরিস্থিতির আকস্মিকতায় আটকা পড়েন। কোনো আত্মীয়ের বাসায় না থেকে আগন্তুক হিসেবে রেন্ট হাউসে দিনাতিপাত করেছেন তিনি। শেষ পর্যন্ত বিমানবন্দরের ধারেকাছে না গিয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের সহায়তায় জীবন বাজি রেখে দেশ ছাড়েন তিনি।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ১৯০০ থেকে ২০২৬

বাংলাদেশের ভূখণ্ডে ক্ষমতার পালাবদল এবং রাজনৈতিক নেতাদের পলায়ন বা নির্বাসনের ইতিহাস শতাব্দী প্রাচীন।

  • ১৯০০ - ১৯৪৭: বিংশ শতাব্দীর শুরুতে বঙ্গভঙ্গ (১৯০৫) এবং ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের সময় থেকেই এ দেশের নেতারা বারবার কারাবরণ ও আত্মগোপনের শিকার হয়েছেন। ১৯৪০-এর লাহোর প্রস্তাবের পর দেশভাগের ডামাডোলে অনেক নেতাকে সীমান্ত পাড়ি দিতে হয়েছিল।

  • ১৯৫২ - ১৯৭১: বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত রাজনৈতিক নেতাদের বড় একটি অংশ ভারতে আশ্রয় নিয়ে অস্থায়ী সরকার গঠন করেছিলেন। তবে সেই পলায়ন ছিল দেশপ্রেমের ও মুক্তির আকাঙ্ক্ষার।

  • ১৯৭৫ - ২০২৪: ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর আওয়ামী লীগের বহু নেতা আত্মগোপনে গিয়েছিলেন। একইভাবে ২০০৭ সালের ১/১১-এর সময়ও শীর্ষ নেতাদের জেলে বা বিদেশে যেতে দেখা যায়। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পলায়ন ছিল নজিরবিহীন। সীমান্তের কাঁটাতার পার হতে গিয়ে অনেক নেতাকর্মীর মৃত্যু এবং সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মতো প্রভাবশালী মন্ত্রীদের ছদ্মবেশে দেশত্যাগ আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক বিপর্যয়ের চূড়ান্ত রূপ।

  • ২০২৫ - ২০২৬ এর লক্ষ্য: ২০২৪ সালের বিপ্লবের পর ২০২৫ সাল কেটেছে রাষ্ট্র সংস্কারের মধ্য দিয়ে। ২০২৬ সালের আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে এখন দেশপ্রেমিক রাজনীতির নতুন সংজ্ঞা তৈরি হচ্ছে। ড. মোমেন তাঁর সাক্ষাৎকারেও বলেছেন, "দেশটাকে জঙ্গি দেশ বানাতে চাই না, দেশটাকে বাঁচাতে হবে।" যদিও তাঁর এই বক্তব্যের বিপরীতে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ এখনো প্রশমিত হয়নি।

আওয়ামী লীগের বর্তমান অবস্থা ও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ

বিশ্লেষকদের মতে, শেখ হাসিনার ভুল সিদ্ধান্তের কারণে আওয়ামী লীগ এখন ধ্বংসের মুখে। অনেক নেতাকর্মী এখনো ভারতের সীমান্তে ধরা পড়ছেন অথবা আত্মগোপনে থেকে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। ২০২৬ সালের রাজনৈতিক মানচিত্রে আওয়ামী লীগের সরাসরি অংশগ্রহণ এখন বড় প্রশ্নের মুখে। ড. মোমেনের মতো নেতারা যারা বিদেশে পাড়ি জমাতে পেরেছেন, তারা সেখান থেকে রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করলেও দেশের অভ্যন্তরে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা রয়েছেন চরম অনিশ্চয়তায়।


সূত্র: ১. সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেনের ভার্চ্যুয়াল সাক্ষাৎকার ও দৈনিক মানবজমিন প্রতিবেদন। ২. বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিবর্তন ও ক্ষমতার ইতিহাস (১৯০০-২০২৬): গবেষণা ও আর্কাইভ। ৩. আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম (বিবিসি বাংলা ও আল জাজিরা) এবং গুগল নিউজ বিশ্লেষণ।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency